নিঃসঙ্গতার সংজ্ঞা

এত মানুষের ভিড়ে

প্রাত্যহিক কর্ম-কোলাহলে

হাসির ফোয়ারায়, থাকি উচ্ছসিত আনন্দে

তবু কেন থেকে যাই বরাবরের মতো একান্তই একা।

 

কথার ফুলঝুরি ঝরে সকাল-সন্ধ্যা

বাক বাকুম বাক্যে ভ’রে যায়

শ্রোতাদের কর্ণ-কুহর

জানিনে শুরু কোথায়, কোথায়ই বা সমাপ্তি- রেখা।

কত যে কথকতা, কতকথা !

তবু কেন মনে হয় নিরর্থক নীরবতা

শব্দদের যে বাক্যবাণে ছুঁড়ে দিই যত্রতত্র

তারাই ফিরে আসে নিঃশব্দে নিজ মনে ।

প্রায়ই বলি ঠাট্টাচ্ছলে

কথা বিক্রি করে খাই আমি নিত্যই

হাসেন অনেকেই উন্মুক্ত উচ্চস্বরে

কেউ কেউ থেকে যান একাকী আনমনে।

নিঃসঙ্গতার সংজ্ঞা খুঁজেছি যত্রতত্র

অভিধানের পাতায় কিংবা গুগুলায়িত জ্ঞানে

সকলেই বলে নিঃসঙ্গতাতো একাকীত্বেরই অপর নাম

কিন্তু কই নিঃসঙ্গ এই আমি, একাকীতো নই কখনই।

অকস্মাত্ দৈব বাণীর মতোই

তুমি দিয়ে গেলে নিঃসঙ্গতার অনুসঙ্গটুকু

বলে গেলে নিঃসঙ্গতা, সঙ্গীর অভাব নয় আদৌ

সংজ্ঞা এর লুকিয়ে আছে অন্যত্র, জানবে না এখনই।

আরও একদিন, আবার ও যেন এক দৈববাণী…

সঙ্গী নয়, সঙ্গতের অভাবই নিঃসঙ্গতা আসলে

সুরের সঙ্গে  সখ্য যেমন তবলার বোলের

তেমনি থাকে সঙ্গীর সঙ্গে হৃদ্যিক  মিল।

নিঃসঙ্গতা ঘুঁচে যায় তখন অকষ্মাত্ আনন্দে

স্থানিক দূরত্বও নিঃসঙ্গতার নয় কোন কারণ

ফুলের কাছাকাছিতো থাকে ক্যাকটাসের কাঁটারাও সব

তবু ভালোবাসা ঊড়াল দেয়, খোঁজে আকাশেরই নীল।  

১৬ই নভেম্বর ২০২১, ম্যারিল্যান্ড  

Copyright@anisahmed

Comments

Leave a Reply