বিহ্বল এক বিষন্নতা

ও চোখে টল মল করা জল দেখে
বিষাদের প্রসাদ পেয়ে যাই অকষ্মাত্
ঊনিশ শতকের সেই রোমান্টিক কবির মতো
আমি ও গাইতে চাই মিষ্টি কোন গান।
বেদনার কূপ খুঁড়ে পেতে চাই আনন্দ ভুরি ভুরি।
কিন্তু আমিতো কবি নই, ছিলাম না কষ্মিনকালেও
তাই যখনই খুঁজি এক খন্ড অখন্ড আনন্দ
অকষ্মাত্ কোন ভূমিধ্বসে অক্ষরেরা হয় অমিত্র।

অস্থির শব্দরাও যে পলাতক আসামি হয়ে
মুখ থুবড়ে পড়ে যাবে কোন জনপথের পাশে
কিংবা জগতের যাবতীয় অ-কবিদের কাছে ধর্ষিতা
হবে সে, বার বার লজ্জায় ঢাকবে নিজের মুখ
তার রূপ ও রসের এমন কদর্য ব্যবহার দেখে
আমিও শোকার্ত হই , অভিশাপ দিই দু হাত তুলে
সেই তাদের, যারা নপুংসকের মতো ফোটাতে
পারেনি ফুল, কেবল আঘাত করেছে অযথা বার বার।

এখন আমি তাই, বার বার কবি হতে চাই
অক্ষরের যুথবদ্ধতায় যে শব্দরা হবে সত্ত্বা
অনুভূতির অনুরণনে যারা হয়ে যাবে সঙ্গীত
তাদেরই সঙ্গ চাই নিঃসঙ্গ এ চরাচরে আমি
নইলে বলো কেমন করে গাইব সেই গান
কষ্টের মাঝেও যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শেলী
একদা সেই নিমগ্ন এক স্বপ্নবিলাসী বিহ্বলতায়
সেই প্রতিশ্রুতি আজও বড় শ্রুতিমধুর আমার কাছে।

হঠাত্ চেয়ে দেখি , কই নাতো কাঁদছো নাতো তুমি
অমন চোখ প্রকৃতিই তোমার, বেদনা গেড়েছে আবাস ভূমি।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি ২০২১
Copyright@anisahmed

Comments

Leave a Reply