পাতা ঝরা না কী ঝরা-পাতা

রঙিন পাতাদের সাথে
পাতানো হলো না মিতালী আমার
হাততালি দেয়া উচ্ছসিত মনে
দেখলাম কেবল রঙ্গের খেলা ।
হাত বাড়াতেই শিহরণ জেগেছিল বুঝি
ওই সব পত্র-পল্লবের দেহ-আঙিনায় ।
আরে ধ্যাত্ হাত কই আমার
এতো হাওয়াই তাদের করেছে শিহরিত
আমি কেবল বিস্মিত এক বোকা দর্শকই বটে
ভাব-বাচ্যেই আনন্দ পেয়ে যাই হৈমন্তী বিকলে।

পৃথিবীর তাবত্ মানব কুলের মতো
আমিও রঙিন পাতাদের দেখতে
চলে যাই কোন এক পাহাড়ি প্রান্তরে
বিমুগ্ধ চোখে কখনও দেখি পাতাদের রূপ
কখনও আবার শারদ আকাশে মেঘের ভেলা ।
শরতে-হেমন্তে এমন মাখামাখি দেখিনিতো আগে কখনও ।
বসন্ত-উত্সব কিংবা পয়লা বৈশাখের মতোই রঙিন তারা।
কল্পলোকে থাকে ঝরা শিউলী, দৃশ্যপটে পাতার নাচন।
বড্ড হিংসে হয় ঐ অদৃশ্য হাওয়াদের আমার
যখন তখন স্পর্শ করে যায় রূপসী পাতাদের নির্নিমেষেই ।

অকস্মাত্ চেয়ে দেখি পায়ের কাছেই
ঝরা -পাতাদের অনুচ্চারিত এক সম্মেলন
আমারই আঘাতে মচমচ শব্দে কাঁদে তারা
যেন সদ্য ধর্ষিতা তরুণীকুল সকলেই
অথবা বঞ্চিত সেই জনগোষ্ঠি তারা
যারা পদপিষ্ট হয়ে থেকে গেছে চিরকাল ।
যতক্ষণ ছিল বাসন্তী পাতা হয়ে হেমন্তকালে
ততক্ষণই লোলুপ দৃষ্টিতে দেখেছে মানবকুল ।
আজ এই পতিত পাতারা আবর্জনা হয়ে যায়
অতঃপর ঝড়ে কিংবা ঝাঁটায় বিদায় হয় অন্যত্র।

জানি হেমন্তের পাতার মতো পড়বো ঝরে আমিও ,
সে কথা জানো তুমি যতটা, ততটা অন্তর্যামীও ।

২১শে অক্টোবর,২০২০
Copyright@anisahmed

আলোকচিত্র: Jonathan Mast

Comments

Leave a Reply