উকুন

উকুনের ভয়ে ত্রস্ত থাকতো সে বরাবর
পুলিশের মতোই চিরুণী তল্লাশি চালাতো
পল্লবিত ঐ ঘন চুলেদের অলিতে গলিতে।
গো-বেচারা উকুনেরা সব উৎখাত হতো
কোঁকড়া কেশের কাঙ্খিত উষ্ণতা থেকে
তারপর স্নান সেরে ছাদের খোলা হাওয়ায়
ভ্রান্ত নিশ্চয়তায় শুকোতো চুল অব্যক্ত আনন্দে
গুনগুনিয়ে শুনিয়ে যেতো নিজেকেই নিজের গান।

এতো যে সতর্ক অভিযান অনুজীব উকুনের বিরূদ্ধে
এতো যে রক্ষনশীল থাকে সুরক্ষিত কেশগুচ্ছের প্রতি
তারপরও কি বলবে সে ভালবাসার কোন উকুন কখনই
বাঁধেনি বাসা কালো কেশের স্নিগ্ধ ছায়ায়
চুলের অলিতে-গলিতে কি কখনই বাজায়নি শিস
বাউন্ডুলে বালকের মতো কখনও কি চায়নি তার দিকে।
যতবার তাকে সরাতে চায় আঙ্গুলের কোমল স্পর্শে
ততবারই সে লুকোয় গিয়ে তারই চুলের ভাঁজে ভাঁজে।

না না, রক্তচোষা মোটেই নয় পরজীবি এ প্রেমের প্রাণী
ভালোবাসার সুধারসেই ভরাতে চায় তৃষ্ণার্ত হৃদয়
তাইতো দেখি তেলেতে জলেতে মেশানো সাঁড়াশি অভিযানে
হয়রান ও হতবাক হয় কেশবতী কন্যা কেবল
হারেনা তবুও অতি-ক্ষুদ্র এ না-ছোড় বান্দা প্রাণী
হয়ত কখনও কখনও সংক্রমিত হয়েছে বালিকা মন তার
অতঃপর দ্রুতই সুরক্ষার দেয়াল গড়েছে,
ভালোবাসার অনুজীবকে পাশ কাটিয়ে।

নিজেকে নিজেই বাহবাহ দিয়েছে উকুন বিদায়ের আনন্দে
বোঝেনি কখনই অনুভূতির অনুজীবেরা লুকোয় জীবনেরই ছন্দে

২৫ শে জুন ২০২০, ম্যারিল্যান্ড
Copyright@anisahmed

Comments

Leave a Reply